বিশ্বকাপ শুরুর আগেই সীমান্ত উপজেলায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা উন্মাদনা


  >১১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। তবে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই ফুটবল উন্মাদনায় মেতে উঠেছে দেশের সর্বদক্ষিণের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ। মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা এই জনপদ এখন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সরগরম।

২৫ মে টেকনাফ সদরে কয়েক শ ব্রাজিল–সমর্থকের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়। এর পাল্টা হিসেবে ৫ জুন বড় ধরনের শোভাযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা।

২৫ মে ‘ব্রাজিল সমর্থক গোষ্ঠী’ ব্যানারে আয়োজিত শোভাযাত্রাটি টেকনাফ স্থলবন্দর থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে মেরিন ড্রাইভে গিয়ে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীদের বেশির ভাগের গায়ে ছিল ব্রাজিলের হলুদ জার্সি। পরে শহীদ মিনার চত্বরে আরও বড় আয়োজনের ঘোষণা দেন তাঁরা।

ব্রাজিল সমর্থক মোরশেদ আলম বলেন, ‘বিশ্বকাপ এলেই আমরা উজ্জীবিত হই। ব্রাজিল নান্দনিক ফুটবলের দল। আনন্দ ভাগাভাগি করতেই আমরা একত্র হয়েছি।’

শোভাযাত্রার সমন্বয়ক বাহা উদ্দিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ করে ব্রাজিল সমর্থকেরা একত্র হয়েছেন। তাঁর দাবি, টেকনাফে ব্রাজিল সমর্থকের সংখ্যাই বেশি।

টেকনাফ উপজেলা খেলোয়াড় সমিতির সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, আগামী ৫ জুন কয়েক শ মোটরসাইকেল নিয়ে শোভাযাত্রা করবেন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। পাশাপাশি কনসার্ট এবং বড় পর্দায় ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচও প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, টেকনাফে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ আর্জেন্টিনার সমর্থক, ৩০ শতাংশ ব্রাজিলের এবং বাকিরা জার্মানি, পর্তুগাল, ফ্রান্স ও স্পেনের সমর্থক।

টেকনাফ রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফরহাদ আমীন বলেন, টেকনাফে আর্জেন্টিনার চেয়ে ব্রাজিল–সমর্থক বেশি।

বিশ্বকাপ ঘিরে স্থানীয় বাজারগুলোতেও বেড়েছে জার্সি ও পতাকার বিক্রি। টেকনাফ বাজারের ব্যবসায়ী রহমত উল্লাহ বলেন, মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে পুরো টেকনাফে বিশ্বকাপের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও সড়কের পাশে উড়ছে বিভিন্ন দলের পতাকা। সমর্থকদের গায়েও দেখা যাচ্ছে প্রিয় দলের জার্সি।

>স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টেকনাফে মূলত আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি ও পর্তুগাল—এই চার দলের সমর্থক বেশি। তবে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে হাটবাজার, চায়ের দোকান, অফিস-আদালত থেকে শুরু করে বাসাবাড়িতেও চলছে প্রিয় দল ও খেলোয়াড়দের নিয়ে আলোচনা।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post