১৯৩০ সালে মন্টেভিডিওর সেই ধূসর বিকেলে বিশ্বকাপ নামে যে মহাযাত্রার শুরু হয়েছিল, তা আজ শতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। এই যাত্রার কোথাও পেলে-গারিঞ্চার সাম্বার ছন্দ, কোথাও ম্যারাডোনার ঈশ্বরপ্রদত্ত জাদুকরি ছোঁয়া, আবার কোথাও জিনেদিন জিদান কিংবা লিওনেল মেসির অমরত্বের পথে হেঁটে যাওয়া—সব মিলিয়েই তো এই ফুটবল-পুরাণ। ইতিহাসের ধুলো ঝেড়ে বিশ্বকাপের সব রোমাঞ্চকর স্মৃতি ফেরানোর আয়োজন—ফিরে দেখা বিশ্বকাপ।
আবার টানা এগারো ম্যাচ অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপ খেলতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা বিদায় নেয় প্রথম রাউন্ড থেকেই, যে অভিজ্ঞতা স্বাগতিক হিসেবে অন্য কোনো দলের ছিল না। অবশ্য আয়োজক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা নতুন অনেক কিছুই করার চেষ্টা করেছে। যেমন সেবারই প্রথম কিছু ম্যাচ কৃত্রিম ঘাসের ওপর খেলা হয়েছিল। এমবোম্বেলা (নেলস্প্রুটে) ও পিটার মোখাবা (পোলোকওয়ানে) স্টেডিয়ামে হাইব্রিড কার্পেট ব্যবহার করা হয়েছিল, যা প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম ঘাসের সমন্বয়ে তৈরি। https://www.effectivecpmnetwork.com/qp27t7g0?key=330d3b20aa2b8512e33c0c1b7315ff94
২০১০ বিশ্বকাপেই যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন চারজন। জার্মানির টমাস মুলার, স্পেনের ডেভিড ভিয়া, নেদারল্যান্ডসের ওয়েসলি স্নাইডার এবং উরুগুয়ের দিয়েগো ফোরলানরা ৫টি করে গোল করেন।
এই বিশ্বকাপেই প্রথম আগের বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট (চ্যাম্পিয়ন ইতালি ও রানার্সআপ ফ্রান্স) প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয়।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ঘটনা এটি। ২০০৯ সালের জুনে ১-০ গোলে হেরে কলম্বিয়ার মেদেলিনের হোটেলে ফিরেছিল পেরু দল। বিশ্বকাপের আশা তাদের আগেই শেষ, দলের পরিবেশও বিষণ্ন। পরিকল্পনা ছিল পরদিন সকালে লিমায় ফেরার। কিন্তু মাঝরাতে হঠাৎ বদলে যায় সূচি। পেরুর প্রেসিডেন্ট অ্যালান গার্সিয়ার অনুরোধে বিমানবাহিনীর চার্টার্ড ফ্লাইট আগেভাগেই ছাড়বে—এই খবর পেয়ে তড়িঘড়ি বিমানবন্দরের পথে রওনা হয় পুরো দল। খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা—সবাই উঠে পড়েন বিমানে। ক্লান্ত শরীর নিয়ে কেউ খেয়ালই করেননি, একজন নেই।
সেই একজন ছিলেন ফরোয়ার্ড হেরনান রেনগিফো। কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ তিন মিনিটে নামা স্ট্রাইকারটি নতুন সূচির খবরই শোনেননি। তিনি নির্ভার মনে হোটেলের কক্ষে ঘুমাতে চলে গিয়েছিলেন। সকালে ঘুম ভেঙে রেনগিফো দেখলেন, পুরো দল তাঁকে ফেলে চলে গেছে। ফাঁকা হোটেলে একা দাঁড়িয়ে আবিষ্কার করেন, তিনি এক হারিয়ে যাওয়া স্ট্রাইকার।
পরে অবশ্য কর্মকর্তারা তাঁর জন্য আলাদা টিকিটের ব্যবস্থা করেন।
style="box-sizing: border-box; color: #121212; font-family: Shurjo, "Siyam Rupali", Roboto, Arial, Helvetica, monospace; font-size: 18px; line-height: 1.7; margin: 0px 0px 16.0002px; padding: 0px;">আফ্রিকার মাটিতে প্রথম বিশ্বকাপ, এখন পর্যন্ত একমাত্রও। এই বিশ্বকাপই পেয়েছিল সর্বশেষ নতুন চ্যাম্পিয়ন—স্পেন। ২০১০ ফিফা বিশ্বকাপকে মনে রাখতে হবে আরও কিছু কারণে। যেমন কান ঝালাপালা করা ভুভুজেলা বাঁশি আর জার্মানির একটি অ্যাকুয়ারিয়াম থেকে শতভাগ সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করা একটি অক্টোপাস।
এই বিশ্বকাপ কোনো লাতিন আমেরিকান দলই জিতবে বলে মনে হয়েছিল গ্রুপ পর্বের পর। কারণ, দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলসহ পাঁচটি দল ছিল এই মহাদেশের, যাদের মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালেও উঠে যায় চারটি। কিন্তু টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে ১–০ গোলে হেরে যাওয়া ইউরোপের স্পেনই ফাইনালে একই ব্যবধানে একই মহাদেশের নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথম শিরোপা জিতে নেয়। পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে কম গোল (৮টি) করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঘটনা ছিল এটি।
/>